ভারত সফরে গিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করিনি: কাদের

0
94

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে এ দেশে কে ক্ষমতায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারত সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা করিনি। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।’
আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমার যেমন একটি ভোট আছে, তেমনি এ দেশের সংখ্যালঘু মানুষেরও একটি ভোট দেওয়ার সমান অধিকার রয়েছে।’ তিনি বলেন, আজ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের যোগ্যতা বলে সচিব, এসপি, ডিসি ও বড় বড় কর্মকর্তা হচ্ছেন। এটা একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার আছে বলেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের মর্যাদা ও অধিকার সমানভাবে ভোগ করতে পারছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি খুলনা সিটি নির্বাচনে ভোট কম পেয়ে পরাজিত হয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার জন্য নানা পথ খুঁজছে। শুধু খুলনায় নয়, বার কাউন্সিল নির্বাচনেও বিএনপি পরাজিত হয়েছে। তাই তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আদালত খালেদা জিয়ার জামিন দিয়েছেন। এতেই প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশে আইনের শাসন বিদ্যমান। এ ব্যাপারে সরকারের কোনো হাত নেই। খালেদা জিয়া যেসব মামলায় আটক, সেসব মামলা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা নয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের মামলায় তিনি ১৫২ দিন আদালতে হাজির হননি।’ তাই আদালতের মামলার রায় দিতে দেরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে গিয়ে নালিশ করে কোনো লাভ নেই। বাংলাদেশের জনগণই ঠিক করবে এ দেশে কে ক্ষমতায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারত সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা করিনি। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।’ সীমান্ত চুক্তির সফলতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, শিগগিরই তিস্তা পানি চুক্তি হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের যে হৃদ্যতাপূর্ণ আলোচনা হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। দুই দেশের দুটি দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে অনেক কথা হয়। এ দেশে তাদের সমান অধিকার রয়েছে। মানুষ হিসেবে আমার যেমন একটা ভোট আছে, তেমনি সংখ্যালঘু মানুষেরও একটা ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।’ তিনি ২০০১ সালে নির্বাচন-উত্তর নির্যাতন-নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিকল্প আওয়ামী লীগই। পাকিস্তানের দোসররা আওয়ামী লীগের বিকল্প হতে পারে না। আমাদের কাজের ক্ষেত্রে কিছু দোষত্রুটি থাকতে পারে। তবে সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের কোনো দল নেই। আওয়ামী লীগ দুর্বৃত্তদের পছন্দ করে না। তাদের দলে কোনো ঠাঁই নেই।’

ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যে ভিত রচনা করে গিয়েছিলেন, তা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ আগে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বেলুন উড়িয়ে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা যোগ দেন। সম্মেলনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন বাধ্যতামূলক করা, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জমি উদ্ধার, অর্পিত সম্পত্তি আইন বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি জানান।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার। সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা রানা দাস গুপ্ত, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতা নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, মিলন কান্তি দত্ত ও শ্রীমতি মঞ্জু ধর বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার পাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here