মা ও বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনকাজে সহযোগিতার জন্য দায়িত্ব পালনরত সবাইকে নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি খালেদা জিয়ার শেষবিদায়কে দেশের মানুষের জন্য “ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ বিদায়” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া সাতটার কিছু আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান এ কথা জানান। পোস্টে তিনি দেশবাসীসহ জানাজা ও দাফনকাজে যুক্ত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান লেখেন, গভীর শোকের মুহূর্তে তিনি মায়ের শেষ বিদায় দিতে পেরেছেন যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে, যা সম্ভব হয়েছে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ববোধ, যত্ন ও পেশাদারত্বের কারণে। এ বিদায়কে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর ভাষায়, শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি তাঁরা শোকময় পরিবেশে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এবং লাখো মানুষকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
এ ছাড়া পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র্যাব, এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন তারেক রহমান। ডিজিএফআই, এনএসআই ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যদের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, এসএসএফ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয় ও সহযোগিতার কথাও পোস্টে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। পাশাপাশি বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
জানাজা ও দাফনের খবর দেশ-বিদেশে পৌঁছে দিতে দায়িত্ব পালন করা সাংবাদিকদের প্রতিও আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সবশেষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় শোকের এই সময়ে তাঁদের উপস্থিতি ও সহযোগিতা তাঁর পরিবারের জন্য অমূল্য সমর্থন ছিল।
পোস্টে তিনি লেখেন, প্রতিষ্ঠান নয়, মানুষ হিসেবে সবাই যে সহমর্মিতা, সম্মান ও দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা তাঁদের হৃদয় স্পর্শ করেছে এবং এর মাধ্যমেই জাতি মর্যাদার সঙ্গে খালেদা জিয়ার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছে।
Jatio Khobor