google-site-verification=0gYvQ-GEf6xx7n9m8L4kBORRnazBWwqZSSilspQTR5w
ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শান্তি’ থেকে খালেদা জিয়া: জন্ম, নামকরণ, দাম্পত্য ও রাজনীতির পথে যাত্রা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 2, 2026 ইং
শান্তি’ থেকে খালেদা জিয়া: জন্ম, নামকরণ, দাম্পত্য ও রাজনীতির পথে যাত্রা ছবির ক্যাপশন: শান্তি’ থেকে খালেদা জিয়া: জন্ম, নামকরণ, দাম্পত্য ও রাজনীতির পথে যাত্রা
ad728

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল সময়। জাপানি বাহিনীর আগ্রাসন, আজাদ হিন্দ ফৌজের অগ্রযাত্রা—সব মিলিয়ে অস্থির ব্রিটিশ ভারত। সেই সময়েই উত্তরবঙ্গের শান্ত জেলা শহর দিনাজপুরে জন্ম নেন ভবিষ্যতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ তাঁর ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ গ্রন্থে লিখেছেন, পারিবারিক চিকিৎসক নবজাতকের নাম ‘শান্তি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেন যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর শান্তির বার্তা আসে। তবে শিশুটি পুতুলের মতো সুন্দর হওয়ায় পরিবারের সবাই তাঁকে আদর করে ‘পুতুল’ নামে ডাকতে শুরু করেন। নামটি দিয়েছিলেন বড় বোন সেলিমা ইসলাম। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম রাখা হয় খালেদা খানম।

মহিউদ্দিন আহমদের ‘খালেদা’ বইয়েও ‘শান্তি’ নামের প্রস্তাব ও ‘পুতুল’ ডাকনামের গল্প উঠে এসেছে। সেখানে মাসিক নিপুণ–এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়ার বাবা এস্কান্দার মজুমদার বলেন, সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির কারণে ‘শান্তি’ নাম রাখা সম্ভব হয়নি। আদরের মেয়েকে তাই সবাই ‘পুতুল’ বলেই ডাকতেন।

খালেদা জিয়ার বাবা এস্কান্দার মজুমদার বর্তমান ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পড়াশোনা শেষে তিনি জলপাইগুড়িতে চা–বাগানে কাজ করেন এবং পরে চায়ের ব্যবসায় যুক্ত হন। ১৯৩৭ সালে তাঁর বিয়ে হয় পঞ্চগড়ের তৈয়বা খাতুনের সঙ্গে। এই দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে খালেদা জিয়া ছিলেন তৃতীয়। দেশভাগের পর পরিবার দিনাজপুরে স্থায়ী হয়।

শৈশবে খালেদা জিয়া ছিলেন প্রাণবন্ত ও দুরন্ত। বোনদের সঙ্গে হইহুল্লোড়, লম্বা চুল, নাচ শেখা—এসব স্মৃতি উঠে এসেছে বিভিন্ন লেখায়। ফুলের প্রতি ছিল তাঁর বিশেষ অনুরাগ। তিনি নিজেই বলেছেন, ফুলের বাগান করা ও ফুল সংগ্রহ করাই ছিল তাঁর প্রিয় শখ।

তরুণ সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার পরিচয় ও পরে বিয়ে পারিবারিক পরিমণ্ডলেই। ১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট দিনাজপুরে তাঁদের বিয়ে হয় সাদামাটা আয়োজনে। বিয়ের সময় খালেদা জিয়া মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। প্রথম চার বছর তাঁদের দাম্পত্য জীবন কাটে দিনাজপুরেই।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজনীতিতে পা রাখেন খালেদা জিয়া। বিএনপির নেতা–কর্মীদের অনুরোধে তিনি সক্রিয় হন, যদিও বাবা ও ভাই প্রথমে এতে আপত্তি করেছিলেন। বাবার পরামর্শের জবাবে তিনি বলেছিলেন, দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠাই তাঁর লক্ষ্য—কোনো পদ বা ক্ষমতা নয়।

পরবর্তী সময়ে একাধিক সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েন খালেদা জিয়া। জন্ম, নামকরণ, পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে রাজনীতির শীর্ষে ওঠা—সব মিলিয়ে তাঁর জীবনগাথা বাংলাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jatio Khobor

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আলোচনা ছেড়ে রাজপথে দলগুলো: উত্তপ্ত নভেম্বরের আভাস

আলোচনা ছেড়ে রাজপথে দলগুলো: উত্তপ্ত নভেম্বরের আভাস